শেয়ারবাজার বিডি রিপোর্ট: নারীবাদী আন্দোলনের সূতিকাগার,নারী নেতৃত্ব ,নারীর ক্ষমতায়ন ,নারী অধিকার ও মানবাধিকারের বলিষ্ঠ বৈশ্বিক কণ্ঠস্বরটিই যুক্তরাষ্ট্র । চিন্তা, চেতনা ও মননে আধুনিক বিশ্বের আধুনিক বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত রাষ্ট্র। অথচ দেশটির ৫০ অঙ্গরাজ্যের ৩২টিতেই এখনও বাল্যবিবাহ বৈধ ! যে বয়সে স্কুল কলেজ যাওয়ার কথা, চাইলে সেই বয়সেই বিয়ে করতে পারবেন যে কেউ । কোনো আইনি বাঁধা নেই। তবে দেশটির ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে বাল্যবিবাহ। স্থানীয় সময় বুধবার ঐতিহাসিক ওই বিলে (এবি ১২৬৭) সই করেছেন রাজ্যের গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম। বিবিসি।
‘গোল্ডেন স্টেট’ খ্যাত ক্যালিফোর্নিয়ায় আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে আইনটি। নতুন বিধানে বিয়ের জন্য অবশ্যই ১৮ হতে হবে বয়স । আমেরিকার চাইল্ড প্রটেকশন (শিশু সুরক্ষা) আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ সমাজকর্মী কর্টনি স্টোডেনের উপস্থিতিতে বিলটিতে স্বাক্ষর করেছেন তিনি। এরপরেই তা পরিণত হয় আইনে। স্টোডেনের বাবা-মা তাকে মাত্র ১৬ বছর বয়সে ৫০ বছর বয়সী এক হলিউড অভিনেতা ডগ হাচিসনের সঙ্গে বিয়ের অনুমতি দিয়েছিলেন। ২০১১ সালে।
যুক্তরাষ্ট্রের সীমানা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয় তাদের অসম বিয়েটি। ক্যালিফোর্নিয়ার নারী আকাশে এই নতুন ধুমকেতুর নেপথ্য নায়কও তিনি। আইনটি সইয়ের পর স্টোডেন বলেছেন, ‘৫০টি অঙ্গরাজ্যেই শিশুদের বিয়ের হাত থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত’ লড়াই চালিয়ে যাবেন তিনি ।
রাজ্যের এই পরিবর্তনকে একটি ‘বিজয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন গভর্নর নিউসামও। তিনি বলেছেন, বাল্যবিবাহের শিকার ব্যক্তিদের ওপর ‘কখনোই এই বোঝা চাপানো উচিত ছিল না’। সঙ্গে তিনি এই আইনটিকে
‘ক্যালিফোর্নিয়ার তরুণ ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষায় বহু প্রতীক্ষিত একটি পদক্ষেপ’ বলেও অভিহিত করেছেন।
‘ক্যালিফোর্নিয়া আজ বিশ্বকে একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে,’ বিবিসি-কে বলেছেন শৈশবে বিয়ে হওয়া আরেক ক্যালিফোর্নিয়ার বাল্যবিবাহবিরোধী আন্দোলনের আরেক নারী ব্রিটানি বি। নির্যাতনমূলক পারিবারিক পরিবেশ থেকে বাঁচতে ১৭ বছর বয়সে বিয়ে করেছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত প্রাপ্তবয়স্ক স্বামীর হাতেই তাকে শিকার হতে হয় নির্যাতনের। তার ভাষ্য, ‘এটি সব শিশুর জন্য আশার একটি বার্তা, যে তারা কাঠামোগত সহিংসতা থেকে মুক্ত হতে পারে এবং নিজেদের জীবনের পথ নিজেরাই বেছে নিতে পারে।‘ বিয়ে তার কাছে ছিল কারাগারে আবদ্ধ থাকার মতোই। বিবিসিকে তিনি আরও জানিয়েছেন, ‘মানুষের এমন ধৃষ্টতাও আছে যে তারা আমাকে বলে, আমি নাকি নিজেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম; অথচ শিশুরা তো (এ বিষয়ে) সম্মতি দেওয়ার মতো অবস্থায় থাকে না।‘ একই কথা ভুক্তভোগী সারা তাসনিমের মুখেও। ২০১৭ সাল থেকে তিনি নিজেই এই আইনটির পক্ষে প্রচারণা শুরু করেছিলেন বিবিসিকে তিনি জানিয়েছেন , শেষপর্যন্ত যে রাজ্যটি স্বীকার করেছে যে বাল্যবিয়ে নিষিদ্ধ করা উচিত –তা বিশ্বাস করাই যেন কঠিন মনে হচ্ছে। মাত্র ১৫ বছর বয়সে নিজের চেয়ে দ্বিগুণ বয়সী এক পুরুষের সাথে জোরপূর্বক বিয়ে দেওয়া হয়েছিল তাকে।
ক্যালিফোর্নিয়া এবং সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রে বাল্যবিবাহ নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে বি , সারা , কর্টনিসহ বাল্যবিবাহের শিকার অন্যান্য নারীরা বছরের পর বছর ধরে করে আন্দোলন করছেন। প্রায় এক দশক আগেও যুক্তরাষ্ট্রের সব রাজ্যে বাল্যবিবাহের প্রথা চালু ছিল। তবে ধীরে ধীরে অনেক রাজ্যই পরিবর্তন করেছে তাদের আইন। ২০১৮ সালের পর থেকে ক্যালিফোর্নিয়া ১৮তম রাজ্য যারা এটি নিষিদ্ধ করল। সাধারণত বাবা-মায়ের সম্মতি এবং বিচারকের আদেশেই যুক্তরাষ্ট্রে বিয়ে করতে পারেন যেকোনো ব্যক্তি। যুক্তরাষ্ট্রের ৩২ রাজ্যে বাল্যবিবাহ এখনও বৈধ। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যালাব্যামা, ফ্লোরিডা, ক্যানসাস, টেক্সাস এবং অন্যান্য আরও রাজ্য।
শেয়ারবাজার বিডি



















